[কবিতা] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
[কবিতা] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০

মুজিব বর্ষ সংখ্যা ২০২০

বাংলার মুখ ।। মুজিব বর্ষ সংখ্যা ২০২০

সম্পাদকীয়

   শুভ বসন্ত!
   বলা হয়ে থাকে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। হয়েতা সত্যিই তাই অথবা না। তা হোক বা না হোক, অন্তত এটুকু সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় যে ‘বাংলাদেশ’ নামক ভূ-খণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের নেপথ্যে যে ব্যক্তিটির অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মার্চ জন্ম নেয়া কালজয়ী এই মহাপুরুষের জন্ম শতবর্ষ ২০২০ সাল। নিশ্চয় আরোও শতসহস্র বর্ষ ধরে তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙালিদের হৃদয়পটে। তাঁর জন্মদিনে বাংলার মুখ'র লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা।
   সময় হয়ে পড়েছে ব্যাধিগ্রস্ত। রাষ্ট্র হয়ে পড়েছে ইস্যুময়। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রকৃতি, যা ক্রমান্বয়ে রূপ নিচ্ছে জাতীয় ইস্যুতে। জাগতিক নিত্যনতুন ইস্যু উপহার দিচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। সংকটের এই রাষ্ট্রে এবারের বসন্তে জাতি পাচ্ছে মুজিব বর্ষের সৌরভ। এই সৌরভ সম্ভাবনা হয়ে ভাসিয়ে দিক সমূহ সংকটকে, মুছে যাক সকল গ্লানি।
   এরূপ বিশেষ সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলার মুখ'র বিশেষ আয়োজন—মুজিব বর্ষ সংখ্যা ২০২০। এবারের সংখ্যা সমৃদ্ধ হয়েছে বঙ্গবন্ধুকেন্দ্রিক লেখায়। যথারীতি এবারের আয়োজনেও রয়েছে সমসাময়িক নবীন-প্রবীণ লেখকদের সু-সংমিশ্রণ। ব্যস্ততম এই সময়ে যারা লেখা দিয়ে এবারের আয়োজনকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
   তাড়াহুড়োর মাঝেও সংখ্যাটিকে আমরা যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করেছি। হয়তো অলক্ষ্যে কিছু ত্রুটি রয়েও গেছে। আমাদের আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ থাকছে অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি সমূহের জন্য। তবে একটি বিশেষ সুবিধার কথা বলছি, যেকেউ যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমাদের সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
   পরিশেষে, সকলের প্রতি নিরন্তর শুভ কামনা। বাংলার মুখ  পড়ুন, বাংলার মুখ—এ লিখুন। সবার প্রতি সতত শুভ কামনা।

লেখা সমূহ


প্রবন্ধ
ছড়া
গল্প
কবিতা
দ্রষ্টব্য : লেখাগুলো পড়তে উল্লিখিত লেখকদের নামে ক্লিক করুন।

শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

‘পেরেকে টাঙানো দিনপঞ্জিকা’ থেকে পাঁচটি কবিতা : আদিল ফকির

পেরেকে টাঙানো দিনপঞ্জিকা (২০১৯) । লেখক : আদিল ফকির । প্রচ্ছদ : মোস্তাফিজ কারিগর । প্রকাশক : মূর্ধাণ্য
অমানুষের ‘অ’

আমি সেই জানোয়ার, আমার ভেতর আমি এক হিংস্র বীজ বসবাস।মানুষ নামে মানুষ আমি সেই আশপাশ। ভেতর থেক ভেতরে আজ, ভেতর আমি অমানুষের সহবাস। একটা আমি যদি হতাম, গাঙ্গেয় ওই পাখি, সারাবিশ্ব হাসতো, খুলতো সুখ আখি। আমি আছি আমার মত, সৎ হাসে শতশত।অথচ আমি এক, সেই জানোয়ার, আজও মানুষ হতে পারলাম না। সব পাখি উড়ে যায়, আসে না কাছে, অমানুষের সবই ‘অ’, কেউ ছোটে না পিছে।


একটা দুঃখ

এক ট্রাক পাথর রাস্তায় থুবড়ে চাকা ভেঙে
পাথরের ভেতর পাথর অশ্রু ছাড়া এক কান্না
আশি বছরের বুড়ো বসে থাকা এক দুঃখ
খোলা আকাশে তাকিয়ে এক ভঙ্গিমা
অথচ দুচোখে এক ফোঁটা জল কামনা
আমাকে যাতার ভেতর দাও
জীবন বের হবার পূর্বে চোখে এক ফোঁটা জল চাই।


একটি ছবি

শেষরাত অথচ জিহ্বাকণ্ডূয়নের চঞ্চলমতি
কমলালেবুর দুফালায় দাঁড়িয়ে স্ট্রবেরি
যতভাবে যতবার ভাবা যায় এলাচ গন্ধ
অথচ জানালার দুইটি পর্দা দক্ষিণা বাতাস
দুই বুকে ডাউয়া ফলের রোয়া সাজানো 
অবশেষে ফালা ফালা গ্রীষ্মের তরমুজ।


বসে থাকা একটা শীত

শীতকাল
বাসার ছাদে ঠিক দক্ষিণ কোণে—একটা ‘আমি’
ভালো না লাগা ‘আমি’—অথচ লিখছি একটা সুখ
টবের মাটি চেয়ে থাকা- তবে গাছটাতে একটা দুখ।

শীতকাল
আটসাঁট চাদর,বাড়িয়ে থাকা একটা হাত
অথচ নৃত্যে পরা ব্লাউজটা, নিত্য কল্পনায় চে’ থাকা
পাশের সুতা খুলে নেবে, দর্জিবাড়ির কথা...।

শীতকাল
কফির পেয়ালায় কফি, অথচ ধোঁয়া ছাড়া
সময়মত টেবিলে—আমি, আমি নাকি আনমনা
ঠাণ্ডা তো হবেই, দিন দিন প্রতিদিন একটা যাওয়া-আসা।

শীতকাল
তোমার ব্লেজারের এপাট-ওপাট, তুমি নাকি বসে থাকা
চলন্ত গাড়ির জানালায়—ক্ষণেক দেখা 
অথচ টবের মাটি... ছিলো না- জল দেবার মানুষ।

শীতকাল
রাতদুপুর আমি, আমিকে ভাবি—অথচ শার্সির বুকে শীত
হলেও হতে পারতো—একটা কবিতা অথবা গীত
আর লেখা হলো না—গৃহিণীর দাঁত ব্যথা।


স্বাধীনতা

আমার একটা প্রেম আছে—কাঁদে এবং হাসে। আমার একটা কয়েন আছে—হারিয়ে যায় এবং খুঁজে পাওয়া যায়। আমার একটা আয়তকার আছে; তুমি চাইলেই মাঝে একটা বৃত্ত দিতে পারো।


০ লেখক: আদিল ফকির, রংপুর।

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

তিনটি কবিতা : জাকির আহমদ


স্মৃতির শিরোনাম

পত্রিকার চাকরিটা আমি ছেড়ে দিবো মা!
সড়ক দুর্ঘটনার খবর আর লিখতে পারবো না,
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম লিখতে গিয়ে
ঝাঁপসা হয়ে আসে চোখ,
কিবোর্ডে আটকে যায় আঙুল— 
আমি লিখতে পারি না মা!
লিখতে গেলে বাবার নাম চলে আসে বারবার। 
চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাবার থেঁতলে যাওয়া মুখ
পিচঢালা কালো রাস্তায় বাবার লাল রক্তের স্রোত!
মা, তোমার আহাজারি আমাকে পাথর করে দেয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের সংবাদ
আমি আর লিখতে পারবো না মা!


আমার বাড়ি ফেরার রাস্তাটি এখন রাজপথ

আমি আমার বাড়ি ফেরার রাস্তাটির কথা বলছি
যে রাস্তা দিয়ে আমার মতো অনেকেই বাড়ি ফেরে
আমার বাবাও বাড়ি ফিরতেন সেই রাস্তায়
একদিন বাড়ি ফিরতে ধরে সেই রাস্তায়  লাশ হয়েছিলো আমার বাবা
দশ বছরে আরও শ'খানেক মানুষ লাশ হয়েছে বাবার মতো

আমি পিচঢালা কালো রাস্তাটির কথা বলছি
যে রাস্তা দিয়ে আমি বাড়ি ফিরি
বাস-ট্রাকের সাথে এখন ইজিবাইক চলা রাস্তাটির কথা বলছি

আমি আমার বাড়ি ফেরার রাস্তাটির কথা বলছি
যে রাস্তায় অবরোধ চলে, গাড়ি ভাঙচুর হয়
পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয় মানুষ— আমি তার কথা বলছি

আমার বাড়ি ফেরার রাস্তাটিতে এখন মিছিল চলছে
প্রকম্পিত পিচঢালা কালোপথ
স্লোগান চলছে, নেতা তোমার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই

আমার বাড়ি ফেরার রাস্তাটি এখন রাজপথ


শোক

সকাল-বিকেল লাশের মিছিলে হাঁটি
চোখে ভাসে শোকাহত হাজারো মুখ—
আমি শোকাহত, আমারে স্পর্শ করে না শোক! 

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮

বিশেষ কবিতা সংখ্যা : পুরনো পাণ্ডুলিপি থেকে


সম্পাদকীয় 

     দীর্ঘ একবছর বিরতির পর বাংলার মুখ'র বিশেষ আয়োজন— পুরনো পাণ্ডুলিপি থেকে। এবারের পুরো আয়োজনটি শুধুই কবিতা নিয়ে। বিশেষ কবিতা সংখ্যা।
     আগস্ট মাস। এ মাসে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ চলে গেছেন কৃতিমান অনেক বাঙালি। সে তালিকায় রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মতো বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্রও। বাংলার মুখ সেইসব কৃতিমানদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে।
     সময় স্বল্পতা। কোনও লেখা আহবান করা হয়নি, কারও কাছে ব্যক্তিগতভাবেও লেখা চাওয়া হয়নি। পনেরো জন কবির পনেরোটি কবিতায় সেজেছে এবারের কবিতা সংখ্যাটি। এসব কবিতা সংগ্রহের মাধ্যম হিশেবে ব্যবহার করা হয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। লেখা সংগ্রহ কিংবা প্রকাশের ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি লেখকদের অনুমতিও। এরজন্য বাংলার মুখ লেখকদের কাছে দায়বদ্ধ। কোনও লেখক উক্ত প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানালে বাংলার মুখ সেটিকে গুরত্বের সহিত দেখবে।
      উল্লেখ্য, এই পনেরো জনের বাইরেও সমকালে অনেকেই ভালো কবিতা লিখছেন। তাই বলে রাখা ভালো, এই সংখ্যার ভিত্তিতে সেরা কিংবা শ্রেষ্ঠত্বের বিচার অনর্থক।
     এবারের সংখ্যায় যে কবিতাগুলো রাখা হয়েছে, সবগুলোই সমসাময়িক সম্ভাবনাময় লেখকদের রচিত এবং এই সংখ্যার প্রতিটি কবিতাই পূর্বে কোথাও না কোথাও প্রকাশিত। মূলত সেদিক থেকেই এবারের সংখ্যাটির শিরোনাম— পুরনো পাণ্ডুলিপি থেকে।
     আমাদের প্রত্যাশা, এই সংখ্যার প্রায় প্রতিটি কবিতায় পাঠক পাবেন আধুনিক কবিতার মুগ্ধকর অনুভূতি। যদিও প্রতিটি কবিতাই পূর্ব প্রকাশিত, তবুও আমাদের বিশ্বাস পাঠক প্রথম পাঠের চোখেই কবিতাগুলো পড়বেন।
     বাংলার মুখ'র লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি ইদের শুভেচ্ছা। 

পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন 


বি. দ্র. লেখা পড়তে উল্লেখিত লেখকদের নামে ক্লিক করুন।

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

অনির্বাচিত বর্ষার কবিতা—২০১৭


অনির্বাচিত বর্ষার কবিতা—২০১৭। মাত্র দশটি কবিতা নিয়ে এবারের আয়োজন। কবিতাগুলো বর্ষা ঋতু কেন্দ্রিক। এতে 'অনির্বাচিত' শব্দটি জুড়ে দেয়ার কারণ, এবারের কবিতাগুলো কোনও বাছাই প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রকাশ করা হলো। এবার বরং পাঠকরাই বেছে নিক ব্যক্তিগত পছন্দের কবিতাটি।


●

বন্য পীতম

পোড়া শহরের গল্প

বুকের ভিতর একটা আস্ত শহর পুড়ে যায়।
আমার সন্ধ্যা ছুঁয়ে যায় না একমুঠো বেলীফুলে,
খুব ভুলে আর কোন ঠোঁটে জন্ম হয় না কবিতার।
শহরের ব্যস্ত সন্ধ্যেরা (সন্ধ্যা) সে খবর রাখে না।
আমি হঠাৎ কোন প্রেমিকের আর্তনাদ শুনি।
কামিনী ফুলের গন্ধে বেড়ে চলে রাত।
বহুদূরে কুকুর ডাকে,
বাহাদুর চা বানায়, টঙ দোকানে আমার হাতে পোড়ে সিগারেট।
যুবতী মেঘের আড়ালে তখন খুব একা বর্ষার চাঁদ।
অথচ কেউ জানে না, বুকের ভিতর একটা আস্ত শহর পুড়ে যাচ্ছে।


●

সোহান সরকার

প্রণয়িনী বরষা

আকাশ চিরে বৃষ্টি ঝরে যবে চঞ্চলা বরষায়—
তব গৃহকোণে নির্জনে তনু-মনে যেতে চায়।

একলা রাতে, মেঘের সাথে যখন অজান্তে হারাই
হারিয়ে যাওয়া ছন্দগুলো সেথায় হঠাৎ দেখা পাই।

জানলা খোলা, আপন ভোলা ভবঘুরে বসে রয়
নিপুণ ভণিতা ছেড়ে কবিতা করে চলে অভিনয়।

ছন্দের কবি রন্ধ্রের ছবি খুঁজতে খুঁজতে খুঁজে পায়
চলে যায় চর্তুমাত্রায় পায় প্রথম পরিচয়—

কণ্ঠাগত শব্দ যত সেদিন নাহি গিলে খাই
সবই বরং উগ্রে দেই এত দিনে যা জমাই।

ক'দিন আগে; মধ্যভাগে শেষ তোমায় কাছে পাই
বৃষ্টি দিল একি নেশা! শুধুই তোমায় ছুঁতে চাই।

ভেজা ঘাসে হয়তো হাসে, তোমায় পেয়ে সাথে আমায়
মিলেমিশে একাকার তোমার আমার ভেজা জামায়।

ঘড়ির কাটা দিচ্ছে ভাটা কারবা আছে সে খেয়াল
বহু সাধনার সমাপ্তিতে ভেঙেছি আজ সব দেয়াল।

ছন্দে আমি বন্ধ নই আর, পেয়েছি আজ আলোর গতি
কর্মে আমার নেইকো বিরাম, থামাবে আমায় সে কোন যতি?


●
সঞ্চারিণী

প্রতারণার ঋতু



বর্ষা এলেই মনে হয়
এসেছে আবার বুঝি সেই; প্রতারণার ঋতু,
এসময় কোনভাবেই বলা যাবে না, ভিজিনি, ভিজবোনা, ভিজতে চাইনা!
আর ভিজলেই নরম কাদায় রাখতে চাইবে; যে কেউ তার পা, কিংবা
বলবে, "এই যে দেখো; পায়ের আঙুল কেমন ফুলে ওঠেছে, ধরে দেখো; কেমন কাঁপছে!
অঙুলাগ্রে দেখা দিয়েছে; কেমন ঝড়ের আশংকা!"
রাখছি রাখছি বলে কাল্পনিক অনুভব জাগিয়ে; আর তার স্পর্শে খুলে গিয়ে গোপন কপাট,
কোমরে কলস না ভাঙার জলাবদ্ধতা কিংবা মাংসপেশী কুঞ্চনের চাপ বাবদ; তাবৎ কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়ার সহজ সমাধান সামনে এনে দিয়ে বলবে, "খিড়কিটা খোল! ভেতরে আসতে চাই, অপেক্ষমান!
তুমিও ছুটে এসে খুলে দিবে সেই কঠিন দরোজা, এতটা বছর খোলা হয়নি যা।
দাঁড়িয়ে আছো সেই দরজাটির কাছে; অপেক্ষায় তুমি,
তাতে আরো বেশি অনুভুতির গলনে গলে যেতে থাকছে; নরম দেয়ালের মাটি,
বেড়ে ওঠা আঙুল জাগাবে বিস্ময়! তুমি ভয় পেতে পেতে মুদে আসা চোখে দেখবে; 
জেগে থাকার এক নতুন স্বপ্ন-ভেজা পথ! আছড়ে পড়ছে বৃষ্টি-শলাকা সেই পথের উপর, 
আর সে পথে আঙুল নেমেছে যেন কার; দ্রুতগামী বৈদ্যুতিক তার! 
শপাশপ্ শব্দ জলের উপর। দৌড়ে যাওয়া ছোট পায়ের প্রবল ওঠা-নামা বারংবার।
কিছুতেই আড়াল করা যাচ্ছে না; অবাধ্য সেই ইচ্ছেটা!
অথচ চাইছো না; ভিজে যেতে চাইছো না, 
না... চাইছো না; কেউ নামুক... অবাধ সাঁতারের জলে; ডুবিয়ে দেয়ার কৌশলে,
ডুবিয়ে দিক; যার তার যেমন তেমন পা, এমনটিও তুমি চাইছো না, কারণ—
বর্ষা এলেই মনে হয়;
এসেছে সেই ছলনার ছল—কদম ফুলে ভিজে,
বৃষ্টিস্নাত দিন আর বর্ষণমুখর রাত্তিরে সেজে
                                                পহেলা আষাঢ়ে...


● 

নাজিয়া ছায়া

বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু না

বৃষ্টি আমি ভীষণ ভালোবাসি।
রিমঝিম সুরের মাদকতায়
মোহ সৃষ্টি হয়।
মেঘে মাখামাখি আকাশ আর জলের গন্ধ মাখা বাতাসে
যেন রঙিন সুরার নেশা।
তবুও বর্ষা আমার এখন আর প্রিয় ঋতু না।
বর্ষা এলেই মনে পড়ে টুংটাং রিকশা,
ভেজা ভেজা কদম ফুল,
ঠাণ্ডায় নীল হয়ে যাওয়া কোন প্রিয় মুখ।
স্মৃতির আঙিনায় ভীড় করে
কেয়ার গন্ধভরা ঝিরঝিরে বিকেল।
তুমুল বর্ষনের শব্দের ভিতর ও
 আবছা শোনা যায় যেন  সেতারের মেঘমল্লার সুর। 
বর্ষা এলেই গাছেরা মেলে ধরে সবুজ কচিপাতায় ভুলে যাওয়া স্বপ্ন দৃশ্য।
বর্ষা এলেই দেয়ালে ঝুলানো নীলছাতা আর লাল রেইনকোর্ট তাকিয়ে থাকে বিষন্ন চোখে।
তাই আজকাল বর্ষা বাদ দিয়ে
শীত কে আলিঙ্গন করি ভালোবেসে।
অল্প দুপুর স্বল্প বিকেল ব্যস্ততায় কেটে যায়
বিবর্ণ ঝরা পাতায় আর ভেসে উঠে না অতীতের গল্প।
কুয়াশার চাদরে পরম আদরে শীত ঢেকে রেখে 
স্মৃতির শহর।
আমাকে দুঃখী করার জন্য নেই তার কোন বিশেষ আয়োজন।
শীতকেই ভালোবাসি আমি এখন।
তাই বর্ষা আর এখন আমার প্রিয় ঋতু না।


● 

মোহাম্মদ  শহীদুল্লাহ

বৃষ্টির রীতি-নীতি 

নগ্নবৃষ্টির ধমকে প্রকৃতির ব্যকরণ গিয়েছি ভুলে
জলজমাট সময়ের শ্বাসকষ্ট
কাব্যসুখে
ঘুমঘুম বেকারত্ব—
নদীর যৌবন যেন 
কৃপণ দুপুরের কোলে  শুয়ে থাকা নিরন্ন  কবিতার লাইন,

অভাগার দুচোখে
ডুবো মানুষের অভুক্ত ঘর-সংসার
 যান্ত্রিক হাতের কাছে 
মলামাছের মতো ঝাঁক বেঁধে আসে গাঙ ভাসা  উদোম মানুষেরা—ওরাও বুঝি এ দেশের-ই!
নগ্নবৃষ্টি এমনি হতচ্ছারা যে
কারো কারো
আকাশ ফুঁড়ে উঠবে 
জমকালো টাওয়ার।


● 

আরিফুল হাসান

কোন এক মেঘলা সন্ধ্যায়

কোন এক মেঘলা সন্ধ্যায়, পথে নেমে এসো খালি পায়ে,
আকাশে হয়তো মেঘের গর্জন শুনতে পাবে,
হয়তো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়বে,
হয়তো দমকা হাওয়ায় চোখ বুঁজে আসবে,
আমি অপেক্ষায় থাকব;
সেদিন না হয় তোমার প্রিয় ছাতাটা নাই আনলে,
বৃষ্টির ক'টা ফোঁটা পড়বে হয়তো তোমার চিবুক বেয়ে,
আর কাদামাখা পিচ্ছিল পথটাকে নিতে দিও
তোমার কোমল পায়ের সিক্ত পরশ।

তবে, কালো টিপটা দিতে ভুলো না যেন;
হয়তো জানো না তোমার প্রশস্ত কপালে কালো টিপটা
যেন শত বর্ষের সূর্য গ্রহন!

তুমি চাইলে আবার ফাঁকা রেল লাইন ধরে হাঁটতে পারি,
রেল লাইনের স্লিপারের ভারী লোহার পাত দেখে ভরকে যেও না,
হয়তো জানো না, অজস্র মানুষের নিত্য স্বপ্ন ওই পাতে চেপেই
পাড়ি দেয় দূর বহুদূ্রে।

যদি চাও তবে রাজপথ ধরে হাঁটতে পারি,
হাতে হাত রেখে বৃষ্টির পরশ নেব,
কংক্রিটের নগরীর বৃষ্টিতে থমকে থাকা প্রতিটা সভ্য মানুষ
আমাদের পাগল ভেবে দিক না প্রচণ্ড অভিশাপ,
অঝর বর্ষনে শুকনো কাঁদার মতো সে অভিশাপ
ধুয়ে যাবে নিমিশে।

তুমি চাইলে একটা গাঢ় সবুজ কলাপাতা  নিতে পারি,
মাথার উপর না হয় ছোট্টো একটা ছাউনি হলো!
না হয় পাতার উপর শুধু অবিরত বৃষ্টি পড়ার শব্দই শুনলে,
কীভাবে বিশাল আকাশ সুর তোলে ক্ষুদ্র পল্লবে।

উদ্দেশ্যহীন পথ চলায় সেদিন না হয় পাড়ি দিলাম
বেঁকে যাওয়া গলিপথ,
প্রতিটা বাঁকে হবে আমাদের আত্মা দর্শন।
আঁধারে ঢেকে যাওয়া গলিপথে
হয়তো কখনো একমুঠো আলোর দেখা পাবে,
আলোর নগরী থেকে বহুদূরে
নিকশ অন্ধকারে এক মুঠো আলোতেই হবে আমদের আশার সঞ্চারন।

শহরের অদূরে যে পুরোনো রাজবাড়ি আছে;
তুমি চাইলে সেখানেও ঘুরে আসতে পারি,
শতশত বছর ধরে  বৃষ্টিতে স্নান করছে বাড়িটা,
সেদিনের বৃষ্টি বাড়িটাকে শিহরিত করবে কিনা জানি না
হয়তো অনেক দিন আগেও ঠিক এমনি বৃষ্টি হয়েছিল,
রাতের দ্বিপ্রহরে হয়তো কোন যুবতী প্রশস্ত ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল,
সে বৃষ্টি হয়তো দীর্ঘ করেছিল তার প্রিয় মিলনের অপেক্ষাকে,
কয়েকটা মুহূর্তকে যেন এ বৃষ্টি করেছিল সহস্র বছর।
বাড়ির সামনে মস্ত পুকুরের বাঁধানো ঘাটটাতে বসে
দেখবো কতটা বৃষ্টি আছড়ে পড়ে প্রশস্ত জলাধারে।
এই অঝর বৃষ্টি যেন;
প্রতিটা মানুষের সব অপূরনীয় আকাঙ্ক্ষার নিংড়ানো প্রাণরস,
যা অসংখ্য কাল ধরে কঠিন তাপে জ্বলে আবার বৃষ্টি হয়ে
আবার সিক্ত হয়ে উঠেছে।
আবার প্ররোচিত করছে আশায় বুক বাঁধতে,
আবার বলছে স্বপ্ন দেখতে—
ঠিক শতবর্ষ আগেও যেমন বলেছিল।


● 

শিস খন্দকার

সমকালীন বর্ষা

সমূহ যোগ্যতা অযোগ্য প্রমাণ করছে বর্ষার আকাশ;
তুমুল উৎসবে চলছে সূর্যবন্দনা—
পুড়ে যাচ্ছে প্রিয়ার নরম ছাতা। 
★ ★ ★
অতিবৃষ্টি—লুকিয়ে ফেলে প্রিয়ার অশ্রু;
অতিরৌদ্র—উড়িয়ে দেয় প্রিয়ার অশ্রু।
অতিবৃষ্টি এবং অতিরৌদ্র সমার্থক হয়ে যায় প্রিয়তমার ব্যথিত চোখে।


● 

নয়ন আহমেদ

শ্রাবণ

ঘরভর্তি কতোগুলো শ্রাবণ এনে দিলে আত্মস্থ হতো কিছু মগ্নতা।
তোমাদের পরমায়ু বৃদ্ধি পেতো।

বাক্সভর্তি কিছু বর্ষা যাচ্ছে জীবনের দিকে।
চোখ, তার সৌন্দর্যে মজেছে।

কতো সংসার টুকরো টুকরো হচ্ছে প্রেমহীন !
মমত্বটুকু যাচ্ছে বেঁকে !

শ্রাবণ হে, এখনই কয়েকটা কাজলকালো অভিযোজন উপহার দাও।


● 

আদিল ফকির

বর্ষার রূপান্তর 

বাঁশ বাগানের শুকনো বাঁশ পাতা ভেসে গেছে
ঢেঁকি পাতা জল ভারে মাটির বুকে বুকে
হোলাব্যাঙ নিস্তব্ধ পূর্বের মত ডাক আসে না
পাশের বাড়ির সে আর জানালা খুলে না
আমার ছাতায় আমি এখন একা
চটকা জালে টেঙরা-পুটি আর খলশে উঠে না

তোমাদের বুটজুতো ভিজে গেছে
কালো পিঁপড়া-লাল পিঁপড়া সবে তো মরে গেছে
বলার কিছুই ছিল না—
চোখের পাতা বর্ষায় ভেজা ছিল
বুঝতে পারিনি কালো আর লাল

বাঁশ বাগানের শুকনো বাঁশ পাতা ভেসে গেছে
সেই দিনের বাতাসে কিছু কাচাপাতা পড়েছিলো

বুঝতে পারিনি—হয়তবা তেজপাতা ছিলো।


● 

সোহানুর রহমান শাহীন

মফস্বলী শ্রাবণে ভাঙন

মফস্বলী শ্রাবণ ধারায়
ভাঙছে বাড়ি-ঘর
মূল ভাঙছে কূল ভাঙছে
ভাঙছে পানের বর।
ভাঙছে মানুষ স্রোতের কোলে
ভাঙছে যাযাবর
ভেঙে সবাই ডুবছে জলে
আপন কি'বা পর।
ভাঙে নদী একূল-ওকূল
ভাঙছে বারে বার
ছোট্ট শিশু পায় না  খাবার
বাবাও অনাহার।
একূল ভেঙে সেকূল গড়ে
নদীর অনাচার
বানভাসি রা সব হারিয়ে
নিঃস্ব হাহাকার।
শ্রবণ ভাঙে প্রকৃতিতে
নিয়ম-নীতি মেনে
মরছে মানুষ ভাঙন খেলায়
বর্ষার এমন দিনে।

_____

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭

ঈদ আয়োজন—২০১৭


   শুভ বর্ষা!
   রাষ্ট্র হয়ে পড়েছে ইস্যুময়। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রকৃতি, যা ক্রমান্বয়ে রূপ নিচ্ছে জাতীয় ইস্যুতে। তরুণী ধর্ষণ হচ্ছে, শিশু ধর্ষণ হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, পাহাড় ধসে যাচ্ছে। ক্রীড়া জগতের নিত্যনতুন টুর্নামেন্ট উপহার দিচ্ছে গৌরব ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। কবিরা হয়ে পড়ছেন ব্যাধিগ্রস্ত। জাগতিক নানান ইস্যুতে চাপা পড়ছে লেখকদের লেখনী। এরূপ সংকটময় সময়ে সাজাতে হলো আরোও একটি ঈদ আয়োজন।
   বাংলার মুখ ঈদ আয়োজন-২০১৭ একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য সংখ্যা। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় সাজানো হয়েছে সংখ্যাটি। যথারীতি এবারের আয়োজনেও রয়েছে সমসাময়িক নবীন-প্রবীণ লেখকদের সু-সংমিশ্রণ। থাকছে দেশ এবং দেশের বাইরের বাঙালি লেখকদের লেখা।
   প্রতিবারের মতো এবারো লেখা জমা দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেসব লেখার অধিকাংশই গ্রহণযোগ্যতা লাভে ব্যর্থ হয়েছে আমাদের নির্বাচকদের চোখে। ফলশ্রুতিতে মানসম্মত লেখার অঙ্গীকার বজায় রাখতে ধর্না দিতে হয়েছে যথাযোগ্য লেখকদের দরবারে। তাঁরা লেখা দিয়েছেন। সময় স্বল্পতার দরুন অনেকেই দিতে পারেননি। শেষমেশ অনেকের ফেসবুক টাইমলাইন ঘেঁটেও লেখা নিয়েছি আমরা। সকল লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
   যাঁরা ধৈর্য ও আন্তরিকতার সহিত প্রতিটি লেখা পাঠ করে এবারের সংখ্যাটি সার্থক করবেন, তাঁদের প্রতি অফুরান ভালোবাসা।
   পরিশেষে, সকলের প্রতি নিরন্তর শুভ কামনা। বাংলার মুখ পড়ুন, বাংলার মুখ—এ লিখুন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
   ভালো থাকুন।

কবিতা
আদিল ফকির
আবু হাসান শাহরিয়ার
আলতাফ শাহনেওয়াজ
আহমেদ অরণ্য
ইমতিয়াজ মাহমুদ
উত্তম দত্ত
কাজল চক্রবর্তী
কাজী মেহেদী হাসান
কালপুরুষ
জয়ন্ত জিল্লু
তামীম চৌধুরী
নয়ন আহমেদ
পলিয়ার ওয়াহিদ
বন্য পীতম
বিপ্লব নীলাদ্রি
মজনুর রহমান
রহমান হেনরী
রাসেল রায়হান
শ্বেতা শতাব্দী এষ
সঞ্চারিণী
সালেহীন শিপ্রা
সোহানুর রহমান শাহীন

গল্প
ছড়া
কবিতা আলোচনা

প্রবন্ধ
মুক্তগদ্য

[দ্রষ্টব্য : লেখা পাঠ করতে লেখকদের নামে ক্লিক করুন।]

বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

তিনটি কবিতা : বন্য পীতম

আমার পরিচয়


আয়নার সামনে দাঁড়াতে আমার ভীষণ ভয় হয়,
নিজেকে দেখে বিব্রত হই, আমার প্রশ্নের সামনে নিতান্ত অসহায় হয়ে ঠিক আমাকে অনুকরণ করে আমার প্রতিবিম্ব।
আমি কে কিংবা কী?
আমার প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কোথাও কেউ নেই,
না কোন ধার্মিক আমাকে বলেছে আমার পরিচয় কিংবা কোন অবিশ্বাসী নাস্তিক আমাকে আমার উত্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
শিক্ষক, পরিবার অথবা নাগরিক সভ্যতা,
কোন প্রবন্ধ, গল্প উপন্যাস কিংবা কবিতা,
কোথাও কোন উত্তর নেই বরং আমার প্রশ্নকে আরও জটিল থেকে জটিলতর পথে হাঁটাতে বাধ্য করা হয়েছে।
আমার উত্তর নিয়ে হাজির হয়নি কোন দেবদূত।
প্রাচীন উপকথা থেকে সায়েন্স ফিকশন,
কোথায় আমার উত্তর?
অন্ধকার হাতড়ে বেঁচে থাকা সমাজ আত্মপরিচয় নিয়ে ঈশ্বরকে প্রশ্ন করতে ভয় পায়।
আমি ভয় পাই আমাকে, আমাকে অনুকরণ করা অবাস্তব প্রতিবিম্ব কে।
আয়নার সামনে দাঁড়াতে সত্যিই ভীষণ ভয় হয়।
যে কবিতার উৎসর্গপত্রে কেউ নেই 

মধ্যদুপুরে কবিতা কতোটা ভালোবাসবে?
ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর একটা দুপুরে কবিতার উপযোগ কতটুকু তোমার কাছে?
মুখরোচক খাবার সরিয়ে সে হাতে কবিতার বই তুলে নিতে পারবে?
নাকি তুমিও আর দশটা সাধারণ মানুষ? কবিতার বদলে সুস্বাদু কোন লাঞ্চে-ই তোমার আগ্রহ বেশি?
নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে হাতের হেলাল হাফিজ ছুড়ে হাতে তুলে নিবে সুসজ্জিত খাবার প্লেট?
গলা ভেজাবে দামি কোন পানীয় তে?
চোখে রসনাবিলাসের আমুদেপনা?
তুমিও আর দশটা সাধারণ মানুষ হবে?
অথচ মধ্যদুপুরে খাবার নয় বরং হেলাল হাফিজ অথবা রুদ্র দা'র কবিতা পছন্দ করবে এমন কারো প্রেমে পড়ার জন্য-ই হয়তো জন্মেছিলাম।
তুমি বরং কবিতা হও।
অন্তত বসন্তের মধ্যদুপুরে আমি কবিতা ভালোবাসি।


আকাশ কবিতা এবং দুটো চোখ


আকাশ ভালোবাসো?
যারা আকাশ ভালোবাসে হুট করে একদিন তাদের হৃদয়টা আকাশ হয়ে যায়...
"পৃথিবীর কারও হৃদয় কখনো আকাশ হয়?" ভেবে বিস্মিত হওয়া দুটি চোখও যে আকাশ হতে পারে,
সে কথা সম্ভবত এ পৃথিবী ভুলে গেছে।
আমি বিষাদের কবি।
মধ্যদুপুর অথবা নীরব সন্ধ্যায় আমার কলমে হঠাৎ জোয়ার আসে,
জন্ম হয় কবিতার।
কবিতারা আকাশ হয়েই জন্মে।
প্রাচীন ঈশ্বর কি জানে জটিল গাণিতিক হিসেবে ও দুটি চোখকে কবিতা বলায় আর কোন প্রথাগত বাঁধা নেই।
কবিতা, আকাশ কিংবা ও দুটি চোখ,
আমার প্রিয় তালিকার দৈর্ঘ্য বেড়েই চলেছে...


রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

মজনুর রহমান : তিনটি কবিতা

একটা সমূহ কাতরতা

একটা সমূহ কাতরতার ভেতর দিয়ে ব্যপ্ত হচ্ছে সব—
কফিশপের সব অল্প আলো এবং আঁধারগুলো 
টেবিলের চারদিকে ঘোরে ফেরে—নানাবিধ প্রস্তাবনা দেয়;
যার কোন রঙ আমি জানি না—
এমন একটা রঙের জন্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়,
কফির মগে শেষ চুমুক দিয়ে সেই কাতরতাকে ভেতরে নেয়া পর্যন্ত 
অপেক্ষা করে ওয়েটার।



ফুরিয়ে যাবার আগে

একটা চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে দেখা ভালো লাগে,
চায়ের কাপে অনেক অনেক গল্প, ফুরিয়ে যাবার অপেক্ষা
থাকে অসংখ্য অনুমান আর পুড়ে যাবার ভয়।
চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে দেখা ভালো লাগে, 
এক কাপ চা যেন নিজস্ব পৃথিবী, ফুরিয়ে যাবার আগে।

তোমার বুদবুদ 

১.
সন্ধ্যার অন্ধকারে ভেসে ওঠে তোমার বুদবুদ
এক দিকে কাত হয়ে ঢেউ গুণতে থাকি,
পাতার ফাঁকে ডুকরে ওঠে ডাহুকের স্বর।

২.
একটা নিছক স্পর্শের বাদামি গন্ধ
আম্মার শাড়ির মতো বাতাসে উড়ে চলেছে,
কতকাল পরিচিত স্বরের ভেতর অচেনা দুঃখ বসে আছে!


বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

'আরোপিত বিষয়ে আমি লিখতে পারি না; যা আসে তাই লিখি'

রংপুর বইমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের কবি মজনুর রহমান'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বেমানান বায়োস্কোপ'। বইটি প্রকাশ করেছে পাতা প্রকাশ (স্টল : ০৮)। বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের রংপুর বইমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বেমানান বায়োস্কোপ' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
মজনুর রহমান : প্রকাশের অনুভূতি দুই রকম। প্রথম প্রথম খুব উত্তেজিত ছিলাম। এখন খানিকটা গ্লানিতে ভুগছি। প্রথম বই প্রকাশের গ্লানি আছে। বিশেষত যদি সেটা কবিতার বই হয়।

● আচ্ছা। গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের মতো সাহিত্যের দারুণ কিছু শাখা বর্তমান। কিন্তু আপনার কবিতায় মনোনিবেশ কেন?
মজনুর রহমান : হেঁয়ালি মনে হলেও এর জবাব হলো—আলসেমির কারণে। মূলত আলস্য বশত কবিতা লিখি। এতে তেমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম হয় না! তবে কবিতা আপনা-আপনি মস্তিস্কে এসে যাওয়ার একটা ব্যাপারও থাকে। আরোপিত বিষয়ে আমি লিখতে পারি না; যা আসে তাই লিখি। এদিকে আলসেমির কারণে মাথায় অনেক গল্পের প্লট থাকা সত্ত্বেও লিখতে পারি না। নানাভাবে উদ্যেগ নিই, ঘোষণা দিই কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয় খুব কম। জবাবগুলো খুব বড় হয়ে যাচ্ছে নাকি?

● বড় না, বরং ছোট হচ্ছে (হাসি)!  আপনার এই কাব্যগ্রন্থের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
মজনুর রহমান : সামগ্রিক কোন বিষয় নাই আসলে। প্রেম, অপ্রেম, আধাপ্রেম—সব কিছুই আছে একটু একটু। তবে এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি নিজেই বহুবার ভেবেছি গত কয়েকদিন ধরে। কী আছে এই কবিতাগুলোয়? যখন প্রেমের কবিতাগুলো দেখি, মনেহয় কীরকম প্রেমের কবিতা এগুলা? চোখে পানিই আসে না! আবার প্রেম বহির্ভূতগুলো দেখলে মনে হয়, প্রেম নেই, দ্রোহ-বিদ্রোহ তো কিছু থাকতে পারতো! এরকম আরকি! তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, আমার কিছু পাঠক এই না প্রেম না বিদ্রোহ ধরণের কবিতাই চায়!

● বিষয়বস্তু বেশ জটিল! একটু অন্যরকম প্রশ্ন। যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ? কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মজনুর রহমান : অন্যরকম প্রশ্নের অন্যরকম উত্তর হলো—খুব বেশি সাড়া পাওয়ার মতো সময় হয়নি। মাত্র দু'দিন হয় বই মেলায় এসেছে। একদিন গেছে বৃষ্টিতে। কাজেই খুব বেশি সাড়া বোঝা যাচ্ছে না। তবে ফেসবুকে বেশ সাড়া। অনেকেই কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ সৌজন্য কপিও চেয়েছেন!

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। লেখালেখির শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
মজনুর রহমান : যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি তখন শুরু। তার আগে একটু আধটু লিখলেও সেগুলো কী করে ছাপতে হয় জানতাম না। নবম শ্রেণিতে যেহেতু ছাপা হয় কাজেই নবম শ্রেণিতেই শুরু। তখন কয়েকটা ইসলামী ঘরানার পত্র-পত্রিকা আর স্থানীয় যুগের আলোতে লেখা পাঠাতাম। যেটা ছাপা হতো হতো, যেটা না হতো নেই—এভাবে চলতে থাকে। পরে রংপুরে এসে বিভিন্ন ভাবে যুগের আলো লেখক পরিষদ, ছান্দসিক, বিভাগীয় লেখক পরিষদ—এরকম সংগঠনগুলোতে যেতে-আসতে এবং পড়তে পড়তেই নিজের লেখালেখিকে পোক্ত করার চেষ্টা। আসলে, উঠে আসিনি এখনও। পড়েই আছি!

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
মজনুর রহমান : আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ—সময় নেয়ার জন্য।

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭

'নিজের লেখার ধরণ ও ক্ষমতা নিয়ে আমি বেশ সচেতন'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের লেখক আল কাফি নয়ন'র প্রথম উপন্যাস 'অলৌকিক সায়ন্তন'। বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যা প্রকাশ। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম উপন্যাস 'অলৌকিক সায়ন্তন' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
আল কাফি নয়ন : অনুভূতিকে ভাষায় বাঁধতে চেষ্টা করেছি অনেক, কিন্তু পারিনি। অবাক হয়ে আবার নিজেকেই জিজ্ঞেস করেছি, 'এই অনুভূতিকে কী ভাষায় বা শব্দে বাধা যায়?' উত্তর পাইনি আমি।

● সত্যি-ই বিষয়টি আপেক্ষিক। আচ্ছা, আপনার উপন্যাসের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
আল কাফি নয়ন : যদিও এটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, তবুও এর সমান্তরালে জীবনবোধের ছোঁয়া পাঠক পাবে বলে আমি বিশ্বাসী। জীবনের সাধারণ ঘটনা গুলো দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবিতে পাঠক তার কল্পনায় আমাদের সমাজেরই  প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পাবে। আর এটাই মূল বিষয় রহস্যকে আরো স্পষ্ট করবে বলে আমার ধারণা। 

● নবীন লেখকদের মাঝে কবিতার প্রতি একধরণের ঝোঁক দৃশ্যমান। এবারের বইমেলায় তাকিয়ে দেখুন, অজস্র কাব্যগ্রন্থের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে প্রথম বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কবিতাই অধিকাংশের প্রথম পছন্দ। সে তুলনায় কথাসাহিত্যের আকাল বলা চলে! কিন্তু আপনি এখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন। উপন্যাস নিয়ে আসলেন। কিন্তু কেন? নেপথ্যে কি কোনও কারণ রয়েছে? 
আল কাফি নয়ন : প্রথমেই বলে রাখি, আমি নিজেও একজন কবিতা প্রেমী। কিন্তু কথাসাহিত্যের প্রতি বিশেষ ভালোলাগা থেকে এমনটা হয়েছে হয়ত।  গল্প বলতে ভালো লাগে, গল্প শুনতে ভালো লাগে, পড়তে ভালো লাগে।

● স্রেফ ভালোলাগা? দ্বিতীয় কোনও কারণ নেই?
আল কাফি নয়ন : দ্বিতীয় কোন কারণ বলতে গেলে বলতে হয়, নিজের লেখার ধরণ ও ক্ষমতা নিয়ে আমি বেশ সচেতন। সে দিক থেকেও এ ধরনের রচনা করতে উৎসাহ পেয়েছি।

● যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ? কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আল কাফি নয়ন : নতুন লেখক হিসেবে যে সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় আমাকেও যেতে হয়েছে, যেতে হবে। তবে আশাহত হচ্ছি না, ধৈর্য ধরে লিখে যেতে চাই। তবে আমি সামান্য ভাগ্যবান বলা চলে, নতুন হিসেবে পাঠকরা আমাকে এভাবে গ্রহণ করবেন, ভাবতেও পারিনি।

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। লেখালেখির শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম উপন্যাস পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
আল কাফি নয়ন : শুরুটা  নিয়ে আমি নিজেই সন্দিহান। ২০০৮  সাল, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সাহিত্যের স্পর্শে আশা। তারপর যে জগতের সন্ধান আমি পেয়েছি, সে জগতে হেঁটে বেড়াতে আমার ভালোই লেগেছে এতটা দিন। যার ফল হিসেবে আজ আমার প্রথম উপন্যাস—অলৌকিক সায়ন্তন। আর নতুনদের উঠে আসতে যে সকল বাঁধা আসে, আমার বেলাতেও এসেছে। অনেকেই জানেন বিষয়টা, নতুন করে আর কী বলবো...?

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
আল কাফি নয়ন : ধন্যবাদ। 

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

'সহজলভ্য জিনিসগুলোর স্থায়িত্ব খুব দীর্ঘতর হয় না'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের কবি তামান্না লোহানী ছোঁয়া'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়'। বইটি প্রকাশ করেছে চৈতন্য প্রকাশনী (স্টল নম্বর : ৬৩৪-৬৩৫)। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : অনুভূতিটা প্রকাশ করা আমার জন্য বেশ কঠিন। শুধু বলব, আমার ভীষণতর কষ্টের অনুভব গুলো  এ বইটির প্রতিটি পাতায় রচিত আছে। আমার অন্তঃপটের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়'।

● আচ্ছা,  আপনার কাব্যগ্রন্থের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু জানতে চাই...
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে বললে ঠিক এভাবে ব্যাখ্যা করবো, আমার বইটি একটা ছোট্ট গোলাপ গাছ সম। যাতে কাঁটা আছে, আছে পাতা, কলি ও সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপও। সাথে সৌরভ। অর্থাৎ আধুনিক যুগ, বাস্তবতা, স্বাধীনতার বর্তমান প্রেক্ষাপট, প্রেম, কষ্ট সবকিছুই আছে বইটিতে।
আমি আমার মত চেষ্টা করেছি। তবে কি, গোলাপ প্রত্যেকের পছন্দের তালিকাকৃত নাও হতে পারে।

● গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের মতো সাহিত্যের দারুণ কিছু শাখা বর্তমান। কিন্তু আপনার কবিতায় মনোনিবেশ কেন?
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : কেননা আমি কবিতা ভালোবাসি। তাই বলে যে গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের প্রতি অনিহা আছে তা নয়। কিন্তু ভালোবাসার জায়গাটা বরাবরই প্রাধান্যপূর্ণ।

● যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ?
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : খুব একটা খারাপ নয়। বেশ ভালোই বলা চলে। সত্যি বলতে, সহজলভ্য জিনিস গুলোর স্থায়িত্ব খুব দীর্ঘতর হয় না। তাই আমি পাঠক প্রিয়তা সময় সাপেক্ষেই অর্জন করতে চাই। ধৈর্য আমার নেহাত কম না।

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। কবিতা লেখার শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : লেখার শুরুটা বলতে গেলে বলবো, এটাও মহাবিশ্বের বিস্ফোরনের মত! শুরুর ঠিকঠাক সময়টা নির্ধারণ করা মুশকিল। তবে মনে আছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম পাঁচ লাইনের একটি ছড়া লিখেছিলাম। মা শুনে বিশ্বাস করেনি ওটা আমি লিখেছি। তারপর বিদ্যালয়ের ম্যাগাজিন, আঞ্চলিক পত্রিকা, বিভিন্ন মাসিক পত্রিকায় লেখা শুরু করি। অনেকেই পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন। এরপর ২০১৫ তে চট্টগ্রামের দৈনিক খবরিকা, আজাদি ও কালেরকন্ঠের সম্মিলিত এক অনুষ্ঠানে কবিতার জন্য নির্মোলেন্দু গুণদার হাত থেকে গুণিজন সম্মাননা এবং ক্রেস্ট গ্রহণ করি। তারপর চৈতন্য প্রকাশনীর রাজীব দা হঠাৎ বই বের করার প্রস্তাব দিয়ে বসেন, আমিও রাজি হয়ে যাই। এটাই উঠে আসার গল্প। খুব ছোট্ট, কিন্তু আমার জন্য দুর্গম ছিলো বেশ।

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

'ভালোবাসাগুলোকে কবিতায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের তরুণ কবি বন্য পীতম'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঈশ্বর ও ভালোবাসাদের গল্প’। বইটি প্রকাশ করেছে শব্দশৈলী (স্টল নম্বর : ৩৫৭)। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।


● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঈশ্বর ও ভালোবাসাদের গল্প' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
বন্য পীতম : কিছু অনুভূতি সম্ভবত প্রকাশ সম্ভব হয় না অথবা আমি প্রকাশ-ই করতে জানি না। তবে এতটুকু বলবো,  কবিতারা তো সন্তানতুল্য... সন্তান ভূমিষ্ঠের এ অনুভূতি প্রকাশে অক্ষম যে আমি।

●আপনার কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
বন্য পীতম : আসলে ঈশ্বর ও ভালোবাসা নিয়ে আমার অনুভূতি আর ভাবনা গুলো প্রকাশের চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি...। খুব প্রিয় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আর জীবনের চলার পথে ভালোবাসাগুলোকে কবিতায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি, হয়তো খুব হাস্যকর সে চেষ্টা। 

● তা আপেক্ষিক বটে (হাসি)। কবিতা নির্মাণের অসংখ্য বিষয় আমাদের চারদিকে দৃশ্যমান। সমাজ-রাষ্ট্র, জীবন-প্রকৃতি প্রভৃতি এতো কিছু এড়িয়ে ঈশ্বরকে নিয়ে লিখলেন। কিন্তু কেন?
বন্য পীতম : ঈশ্বরকে হয়তো একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি! 

● সুকৌশল উত্তর! যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ?
বন্য পীতম : আসলে বাস্তবতাটা একটু কঠিন-ই। খুব বেশি সাড়া হয়তো পাইনি, হয়তো পাবোও না। তবে আমার বৃত্তে দাঁড়িয়ে আমি বলবো, সবকিছু মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আর বইটা আজই(গতকাল) মেলায় এসেছে। তারপরও বেশ আগে থেকেই কেউ কেউ বইয়ের অপেক্ষায় আছেন। দুই-একজন বই নিয়ে ইনবক্সে ভালো লাগার কথাও বলেছেন। অনেকেই বই চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে বলবো, হ্যাঁ, আমি সন্তুষ্ট। 

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। কবিতা লেখার শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
বন্য পীতম : লেখার শুরু ছোট্ট বেলায়। কাজিন সাগর দাদা খুব চমৎকার লিখতেন, এখন আরও ভালো লেখেন। সেই প্রভাব এড়ানো অসম্ভব ছিলো। একটি কথা না বললেই নয়, ছোট বেলার সেই কাঁচা হাতের সেই লেখা খুব উৎসাহ নিয়ে পড়তেন আমার সেজো মামা(শাহ আহম্মেদ রাসেল আলম)। যেটা আমাকে প্রচণ্ড উৎসাহিত করেছে। বড় হয়ে জেনেছি আমার আম্মুও চমৎকার লিখতেন।
আর আমার কথা বলার চেয়ে লিখতেই বেশি ভালো লাগতো। লিখতে লিখতে হয়তো একটু উন্নতি হয়েছে এই যা...। বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু নিজেকে এখনো কাঁচা লেখক হিসেবেই জানি। এটা বিনয় নয়, সত্যি।

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
বন্য পীতম :  ধন্যবাদ। সবাই তো সব জানতে চান না অথবা সব কথা সবাইকে বলাও হয় না। সে অর্থে, আমিও কৃতজ্ঞ। আপনারাও ভালো থাকুন। 

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

মহান বিজয় দিবস সংখ্যা-২০১৬

উৎসর্গ : দেশের জন্য নিবেদিত সকল প্রাণ।


সম্পাদকীয়

মনে করুন, দশটি উৎকৃষ্ট দৃশ্য থেকে তিনটি রাখতে পারবেন আপনার অ্যালবামে। আপনি কী করবেন? নিশ্চয় সর্বোৎকৃষ্ট তিনটিই নিতে চা'বেন।

মহান বিজয় দিবস সংখ্যার জন্য লেখা আহবান করা হয়েছিলো। সামগ্রিক ও একক ভাবে। পেয়েছি আমরা-প্রচুর! এরপরেও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেকে লেখা পাঠাতে পারেননি; কেউবা এই পত্রিকার প্রতি বিশেষ অনাগ্রহর ফলে পাঠাতে পারেননি। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

বিজয় দিবসের মলাটে সংখ্যাটি শোভা পেলেও, প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু শুধুই বিজয় দিবস কেন্দ্রিক নয়। বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তুতে সাজানো হয়েছে এবারের সংখ্যাটি। রয়েছে দেশ ও দেশের বাইরের সর্বমোট চল্লিশ জন তরুণ-প্রবীণ লেখকের প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য, ছড়া, গল্প ও কবিতা।

লোকবল ও সময়ের সংকটে সংখ্যাটি কিছুটা বিলম্বে প্রকাশিত হলো। তাড়াহুড়োর মাঝেও সংখ্যাটিকে আমরা যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করেছি। হয়তো কিছু ত্রুটি রয়েই গেছে। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি অনিবার্য বিলম্ব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি সমূহের জন্য। তবে একটি বিশেষ সুবিধার কথা বলছি, যেকেউ যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমাদের সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

খুব সম্ভবত এটি এ খ্রিস্টীয় বছরে আমাদের শেষ আয়োজন। সময়ের নতুন-পুরাতন রদবদল চলুক। আমরাও চলবো লেখক ও পাঠকদের আশীর্বাদে। সকলের প্রতি রইলো বিজয় শুভেচ্ছা।

আর হ্যাঁ, আমরা কোনো লেখকের লেখাকে ছোট করে দেখিনি, কারও লেখাকে ছেঁটে ফেলিনি। আমরা শুধু সর্বোৎকৃষ্ট কিছু লেখাকে তুলে নিয়েছি। সবার লেখাই উৎকৃষ্ট, হয়তো আপেক্ষিকতার সূত্রে কোনো কোনো লেখা সর্বোৎকৃষ্ট হতে পারেনি।

সবার প্রতি সতত শুভ কামনা।


❑
প্রবন্ধ

❑
মুক্তগদ্য

❑
ছড়া

❑
গল্প

❑
কবিতা


[বি:দ্র: লেখাগুলো পড়তে লেখকদের নামে ক্লিক করুন।]