[মুক্তগদ্য] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
[মুক্তগদ্য] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭

ঈদ আয়োজন—২০১৭


   শুভ বর্ষা!
   রাষ্ট্র হয়ে পড়েছে ইস্যুময়। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রকৃতি, যা ক্রমান্বয়ে রূপ নিচ্ছে জাতীয় ইস্যুতে। তরুণী ধর্ষণ হচ্ছে, শিশু ধর্ষণ হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, পাহাড় ধসে যাচ্ছে। ক্রীড়া জগতের নিত্যনতুন টুর্নামেন্ট উপহার দিচ্ছে গৌরব ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। কবিরা হয়ে পড়ছেন ব্যাধিগ্রস্ত। জাগতিক নানান ইস্যুতে চাপা পড়ছে লেখকদের লেখনী। এরূপ সংকটময় সময়ে সাজাতে হলো আরোও একটি ঈদ আয়োজন।
   বাংলার মুখ ঈদ আয়োজন-২০১৭ একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য সংখ্যা। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় সাজানো হয়েছে সংখ্যাটি। যথারীতি এবারের আয়োজনেও রয়েছে সমসাময়িক নবীন-প্রবীণ লেখকদের সু-সংমিশ্রণ। থাকছে দেশ এবং দেশের বাইরের বাঙালি লেখকদের লেখা।
   প্রতিবারের মতো এবারো লেখা জমা দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেসব লেখার অধিকাংশই গ্রহণযোগ্যতা লাভে ব্যর্থ হয়েছে আমাদের নির্বাচকদের চোখে। ফলশ্রুতিতে মানসম্মত লেখার অঙ্গীকার বজায় রাখতে ধর্না দিতে হয়েছে যথাযোগ্য লেখকদের দরবারে। তাঁরা লেখা দিয়েছেন। সময় স্বল্পতার দরুন অনেকেই দিতে পারেননি। শেষমেশ অনেকের ফেসবুক টাইমলাইন ঘেঁটেও লেখা নিয়েছি আমরা। সকল লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
   যাঁরা ধৈর্য ও আন্তরিকতার সহিত প্রতিটি লেখা পাঠ করে এবারের সংখ্যাটি সার্থক করবেন, তাঁদের প্রতি অফুরান ভালোবাসা।
   পরিশেষে, সকলের প্রতি নিরন্তর শুভ কামনা। বাংলার মুখ পড়ুন, বাংলার মুখ—এ লিখুন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
   ভালো থাকুন।

কবিতা
আদিল ফকির
আবু হাসান শাহরিয়ার
আলতাফ শাহনেওয়াজ
আহমেদ অরণ্য
ইমতিয়াজ মাহমুদ
উত্তম দত্ত
কাজল চক্রবর্তী
কাজী মেহেদী হাসান
কালপুরুষ
জয়ন্ত জিল্লু
তামীম চৌধুরী
নয়ন আহমেদ
পলিয়ার ওয়াহিদ
বন্য পীতম
বিপ্লব নীলাদ্রি
মজনুর রহমান
রহমান হেনরী
রাসেল রায়হান
শ্বেতা শতাব্দী এষ
সঞ্চারিণী
সালেহীন শিপ্রা
সোহানুর রহমান শাহীন

গল্প
ছড়া
কবিতা আলোচনা

প্রবন্ধ
মুক্তগদ্য

[দ্রষ্টব্য : লেখা পাঠ করতে লেখকদের নামে ক্লিক করুন।]

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

মহান বিজয় দিবস সংখ্যা-২০১৬

উৎসর্গ : দেশের জন্য নিবেদিত সকল প্রাণ।


সম্পাদকীয়

মনে করুন, দশটি উৎকৃষ্ট দৃশ্য থেকে তিনটি রাখতে পারবেন আপনার অ্যালবামে। আপনি কী করবেন? নিশ্চয় সর্বোৎকৃষ্ট তিনটিই নিতে চা'বেন।

মহান বিজয় দিবস সংখ্যার জন্য লেখা আহবান করা হয়েছিলো। সামগ্রিক ও একক ভাবে। পেয়েছি আমরা-প্রচুর! এরপরেও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেকে লেখা পাঠাতে পারেননি; কেউবা এই পত্রিকার প্রতি বিশেষ অনাগ্রহর ফলে পাঠাতে পারেননি। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

বিজয় দিবসের মলাটে সংখ্যাটি শোভা পেলেও, প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু শুধুই বিজয় দিবস কেন্দ্রিক নয়। বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তুতে সাজানো হয়েছে এবারের সংখ্যাটি। রয়েছে দেশ ও দেশের বাইরের সর্বমোট চল্লিশ জন তরুণ-প্রবীণ লেখকের প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য, ছড়া, গল্প ও কবিতা।

লোকবল ও সময়ের সংকটে সংখ্যাটি কিছুটা বিলম্বে প্রকাশিত হলো। তাড়াহুড়োর মাঝেও সংখ্যাটিকে আমরা যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করেছি। হয়তো কিছু ত্রুটি রয়েই গেছে। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি অনিবার্য বিলম্ব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি সমূহের জন্য। তবে একটি বিশেষ সুবিধার কথা বলছি, যেকেউ যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমাদের সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

খুব সম্ভবত এটি এ খ্রিস্টীয় বছরে আমাদের শেষ আয়োজন। সময়ের নতুন-পুরাতন রদবদল চলুক। আমরাও চলবো লেখক ও পাঠকদের আশীর্বাদে। সকলের প্রতি রইলো বিজয় শুভেচ্ছা।

আর হ্যাঁ, আমরা কোনো লেখকের লেখাকে ছোট করে দেখিনি, কারও লেখাকে ছেঁটে ফেলিনি। আমরা শুধু সর্বোৎকৃষ্ট কিছু লেখাকে তুলে নিয়েছি। সবার লেখাই উৎকৃষ্ট, হয়তো আপেক্ষিকতার সূত্রে কোনো কোনো লেখা সর্বোৎকৃষ্ট হতে পারেনি।

সবার প্রতি সতত শুভ কামনা।


❑
প্রবন্ধ

❑
মুক্তগদ্য

❑
ছড়া

❑
গল্প

❑
কবিতা


[বি:দ্র: লেখাগুলো পড়তে লেখকদের নামে ক্লিক করুন।]

বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৬

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : সপ্তমসন্ধ্যা


   প্রহেলিকা বিবশ হয়ে বাজে, খানিক রাতুল। সেই লালরং দিন এখনো লেগে আছে সেই বনের পলাশে আর কৃষ্ণচূড়ায়, পারিজাতে আর শিমুলে। আর আমাদের শিরার ভিতর একটি নদী স্রোতাধীর হয়ে আছে। ব্যাবিলন বুঝেছিলো আকাশের ছাই থেকে হবে না সুরম্য উদ্যান। রাতে, বনের মধ্যে যেইসব গাছ দাঁড়িয়ে থাকে, প্রত্যেকেই একা। এক একটা গাছ তার ডালময় অন্ধ্কার পাতা মেলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। পাতার কোরকে হাওয়া রেখে গেলে একটি প্রজ্ঞান, আমরা ভাবি শ্লেষ্মা জড়ানো পাতালের নাম। শামুকের ধীর গতি বাচাল হয়।  সভ্যতার নাম ভিজে যায়। আঁকাবাঁকা তার পরিক্রম। আর্দ্রতা দিয়ে মুছে দাও করতল। করতলে উড়ে নদীদল। ক্রমে অপস্রিয়মাণ নির্জলা নদ।সমুদ্রপাড়ের গাছবন হেসে হেসে হাঁস। তোমার হাতে মেলেছে ধরা আমাদের মিল। হাঁসের পালক ভিজে না। রূপকথার দমোদর সন্তরণ শেষে ঈশ্বর বসে থাকে ল্যাম্পপোস্টের নিচে, লিখে ফেলে আদর্শলিপি।


   জগতের কিছুই অমূলক নয়। দুনিয়ার মতো জগত শব্দটা আমি কখনো লিখিনি। লিখেছি পৃথিবী। কিন্তু আজকে লেখার পেছনের কারণ হলো অমূলক নয় জিনিশটা বুঝাইতে চাই। কোথাও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। শস্যক্ষেতের ফলমূল অঝর ধারায় ঝরে যাচ্ছে শিশুদের পাঁজরে। এই কান্নার উৎস লেখা ছিলো না কোথাও। তারপরও ব্যথা বাজে অযাচিত চোখের তারায়, লালনের হাহাকারে, পরীদের ডানার ভাঁজে, আযানের গমকে। কোথাও ভূমিকম্প হচ্ছে। এইবার হলে ছাদে উঠে যাবো ভেবে কড়িকাঠের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকি। সপ্তমসন্ধ্যার আকাশের তারাদের কথা ভাবি। তাদের নাম ভুলে যাই ব্যথার ওপারে। এইসব লিখে রাখি যাকিছু মনে পড়ে। তারাদের চোখের পাড়ে ঢেউ ভাঙে কেউ। একটি জাল শুকোয় জলাধারে একা। জানলা আছে ওপাড়ে জেলেদের জালে।

   ছেড়ে আসা শৈশবে কতোদিন আমি ভেবেছিলাম, আমাদের কচুপাতা বনের সকল পাতা একদিন পাতাবাহার হয়ে যাবে। পাতাপোড়া ঘ্রাণ আসে বিষাদের পাশে। পাতাবাহারে অশ্রু ছলছল টপ টপ।  কোনোদিন চুম্বনে আর মৈথুনে ঘুমহীন সাজ। রোদে বোনা দিনে গাছেরা রোদের পাপেরই সহচর। সুদীর্ঘ ছায়াচুর মাঠের কাঁকালে কম্পমান। হাতের কাছে পড়ে থাকে নগ্ন গ্লাস, উল্টো করে বসালে নিজেই আধেয়। তাকে ধরে যে তল—সমতল মাঠে গহ্বর গুপ্ত আছে, যদি সে আনন্দ হয় গভীর কান্নার পেটে।

   সালভেদর দালির ছবি আমার তেমন ভালো লাগে না কেনো তাহা এইখানে বলিব না। তারপরও একদিন দুপুরবেলা সে আমাকে ডেকে বলেছিলো, ‘শোন পাগলা, আমি মদ খাই না। আমি নিজেই মদ।’ সেদিন আমি তার গাণ্ডীবসদৃশ গোঁফের দিকে তাকিয়ে নীরবে হেসেছিলাম। কথাটা খুবই মনে ধরেছিলো আমার। সেই থেকে আমিও মনে হয়, মদ হওয়ার চেষ্টাতেই আছি।