[বইমেলা] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
[বইমেলা] লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

রংপুর বইমেলা-২০১৭ : বিশেষ আয়োজন

চলছে শেষ দিন
(শুক্রবার)
রংপুর বইমেলা-২০১৭ সাহিত্য মঞ্চে বিভাগীয় লেখক পরিষদ, রংপুরের প্রকাশনা উৎসবে দেশবরেণ্য জাতিসত্তার কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা। (ছবি : ১৪তম দিন)

রংপুর বইমেলা-২০১৭য় সাহিত্য মঞ্চে পাতা প্রকাশ আয়োজিত লেখক সম্মাননার মুহূর্ত। (ছবি : ৫ম দিন)
রংপুর বইমেলা-২০১৭ এর দ্বিতীয় ফটক। (ছবি : ৪র্থ দিন)
রংপুর বইমেলা-২০১৭ এর সাহিত্য মঞ্চ। (ছবি : ৩য় দিন)
রংপুর বইমেলা-২০১৭ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রতিমন্ত্রী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। (ছবি : ১ম দিন)
রংপুর বইমেলা-২০১৭ এর মূল ফটক। (ছবি : ১ম দিন)

বিবিধ

●
মেলার সকল বইয়ের নির্ধারিত মূল্যে রয়েছে ৩০% পর্যন্ত ছাড়!

●
এবারের রংপুর বইমেলার প্রায় অর্ধেক স্টল ঢাকা থেকে আগত।

●
মেলা সাধারণত প্রতিদিন দুপুর ২টায় শুরু হয় এবং রাত ৯টায় বন্ধ হয়। তবে ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

●
এবারের বইমেলা ১৬ই মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ১৬ দিনব্যাপী হওয়ার কথা থাকলেও, অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়। নতুন তারিখ অনুযায়ী ২০শে মার্চ থেকে ০৭ই এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ দিনব্যাপী এ বইমেলা চলবে।

●
সম্মিলিত লেখক সমাজ, রংপুরের তত্ত্বাবধানে রংপুর বইমেলা-২০১৭ আয়োজন করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

'আরোপিত বিষয়ে আমি লিখতে পারি না; যা আসে তাই লিখি'

রংপুর বইমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের কবি মজনুর রহমান'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বেমানান বায়োস্কোপ'। বইটি প্রকাশ করেছে পাতা প্রকাশ (স্টল : ০৮)। বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের রংপুর বইমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বেমানান বায়োস্কোপ' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
মজনুর রহমান : প্রকাশের অনুভূতি দুই রকম। প্রথম প্রথম খুব উত্তেজিত ছিলাম। এখন খানিকটা গ্লানিতে ভুগছি। প্রথম বই প্রকাশের গ্লানি আছে। বিশেষত যদি সেটা কবিতার বই হয়।

● আচ্ছা। গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের মতো সাহিত্যের দারুণ কিছু শাখা বর্তমান। কিন্তু আপনার কবিতায় মনোনিবেশ কেন?
মজনুর রহমান : হেঁয়ালি মনে হলেও এর জবাব হলো—আলসেমির কারণে। মূলত আলস্য বশত কবিতা লিখি। এতে তেমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম হয় না! তবে কবিতা আপনা-আপনি মস্তিস্কে এসে যাওয়ার একটা ব্যাপারও থাকে। আরোপিত বিষয়ে আমি লিখতে পারি না; যা আসে তাই লিখি। এদিকে আলসেমির কারণে মাথায় অনেক গল্পের প্লট থাকা সত্ত্বেও লিখতে পারি না। নানাভাবে উদ্যেগ নিই, ঘোষণা দিই কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয় খুব কম। জবাবগুলো খুব বড় হয়ে যাচ্ছে নাকি?

● বড় না, বরং ছোট হচ্ছে (হাসি)!  আপনার এই কাব্যগ্রন্থের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
মজনুর রহমান : সামগ্রিক কোন বিষয় নাই আসলে। প্রেম, অপ্রেম, আধাপ্রেম—সব কিছুই আছে একটু একটু। তবে এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি নিজেই বহুবার ভেবেছি গত কয়েকদিন ধরে। কী আছে এই কবিতাগুলোয়? যখন প্রেমের কবিতাগুলো দেখি, মনেহয় কীরকম প্রেমের কবিতা এগুলা? চোখে পানিই আসে না! আবার প্রেম বহির্ভূতগুলো দেখলে মনে হয়, প্রেম নেই, দ্রোহ-বিদ্রোহ তো কিছু থাকতে পারতো! এরকম আরকি! তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, আমার কিছু পাঠক এই না প্রেম না বিদ্রোহ ধরণের কবিতাই চায়!

● বিষয়বস্তু বেশ জটিল! একটু অন্যরকম প্রশ্ন। যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ? কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মজনুর রহমান : অন্যরকম প্রশ্নের অন্যরকম উত্তর হলো—খুব বেশি সাড়া পাওয়ার মতো সময় হয়নি। মাত্র দু'দিন হয় বই মেলায় এসেছে। একদিন গেছে বৃষ্টিতে। কাজেই খুব বেশি সাড়া বোঝা যাচ্ছে না। তবে ফেসবুকে বেশ সাড়া। অনেকেই কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ সৌজন্য কপিও চেয়েছেন!

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। লেখালেখির শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
মজনুর রহমান : যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি তখন শুরু। তার আগে একটু আধটু লিখলেও সেগুলো কী করে ছাপতে হয় জানতাম না। নবম শ্রেণিতে যেহেতু ছাপা হয় কাজেই নবম শ্রেণিতেই শুরু। তখন কয়েকটা ইসলামী ঘরানার পত্র-পত্রিকা আর স্থানীয় যুগের আলোতে লেখা পাঠাতাম। যেটা ছাপা হতো হতো, যেটা না হতো নেই—এভাবে চলতে থাকে। পরে রংপুরে এসে বিভিন্ন ভাবে যুগের আলো লেখক পরিষদ, ছান্দসিক, বিভাগীয় লেখক পরিষদ—এরকম সংগঠনগুলোতে যেতে-আসতে এবং পড়তে পড়তেই নিজের লেখালেখিকে পোক্ত করার চেষ্টা। আসলে, উঠে আসিনি এখনও। পড়েই আছি!

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
মজনুর রহমান : আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ—সময় নেয়ার জন্য।

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭

'নিজের লেখার ধরণ ও ক্ষমতা নিয়ে আমি বেশ সচেতন'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের লেখক আল কাফি নয়ন'র প্রথম উপন্যাস 'অলৌকিক সায়ন্তন'। বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যা প্রকাশ। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম উপন্যাস 'অলৌকিক সায়ন্তন' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
আল কাফি নয়ন : অনুভূতিকে ভাষায় বাঁধতে চেষ্টা করেছি অনেক, কিন্তু পারিনি। অবাক হয়ে আবার নিজেকেই জিজ্ঞেস করেছি, 'এই অনুভূতিকে কী ভাষায় বা শব্দে বাধা যায়?' উত্তর পাইনি আমি।

● সত্যি-ই বিষয়টি আপেক্ষিক। আচ্ছা, আপনার উপন্যাসের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
আল কাফি নয়ন : যদিও এটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, তবুও এর সমান্তরালে জীবনবোধের ছোঁয়া পাঠক পাবে বলে আমি বিশ্বাসী। জীবনের সাধারণ ঘটনা গুলো দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবিতে পাঠক তার কল্পনায় আমাদের সমাজেরই  প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পাবে। আর এটাই মূল বিষয় রহস্যকে আরো স্পষ্ট করবে বলে আমার ধারণা। 

● নবীন লেখকদের মাঝে কবিতার প্রতি একধরণের ঝোঁক দৃশ্যমান। এবারের বইমেলায় তাকিয়ে দেখুন, অজস্র কাব্যগ্রন্থের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে প্রথম বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কবিতাই অধিকাংশের প্রথম পছন্দ। সে তুলনায় কথাসাহিত্যের আকাল বলা চলে! কিন্তু আপনি এখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন। উপন্যাস নিয়ে আসলেন। কিন্তু কেন? নেপথ্যে কি কোনও কারণ রয়েছে? 
আল কাফি নয়ন : প্রথমেই বলে রাখি, আমি নিজেও একজন কবিতা প্রেমী। কিন্তু কথাসাহিত্যের প্রতি বিশেষ ভালোলাগা থেকে এমনটা হয়েছে হয়ত।  গল্প বলতে ভালো লাগে, গল্প শুনতে ভালো লাগে, পড়তে ভালো লাগে।

● স্রেফ ভালোলাগা? দ্বিতীয় কোনও কারণ নেই?
আল কাফি নয়ন : দ্বিতীয় কোন কারণ বলতে গেলে বলতে হয়, নিজের লেখার ধরণ ও ক্ষমতা নিয়ে আমি বেশ সচেতন। সে দিক থেকেও এ ধরনের রচনা করতে উৎসাহ পেয়েছি।

● যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ? কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আল কাফি নয়ন : নতুন লেখক হিসেবে যে সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় আমাকেও যেতে হয়েছে, যেতে হবে। তবে আশাহত হচ্ছি না, ধৈর্য ধরে লিখে যেতে চাই। তবে আমি সামান্য ভাগ্যবান বলা চলে, নতুন হিসেবে পাঠকরা আমাকে এভাবে গ্রহণ করবেন, ভাবতেও পারিনি।

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। লেখালেখির শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম উপন্যাস পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
আল কাফি নয়ন : শুরুটা  নিয়ে আমি নিজেই সন্দিহান। ২০০৮  সাল, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সাহিত্যের স্পর্শে আশা। তারপর যে জগতের সন্ধান আমি পেয়েছি, সে জগতে হেঁটে বেড়াতে আমার ভালোই লেগেছে এতটা দিন। যার ফল হিসেবে আজ আমার প্রথম উপন্যাস—অলৌকিক সায়ন্তন। আর নতুনদের উঠে আসতে যে সকল বাঁধা আসে, আমার বেলাতেও এসেছে। অনেকেই জানেন বিষয়টা, নতুন করে আর কী বলবো...?

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
আল কাফি নয়ন : ধন্যবাদ। 

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

'সহজলভ্য জিনিসগুলোর স্থায়িত্ব খুব দীর্ঘতর হয় না'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের কবি তামান্না লোহানী ছোঁয়া'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়'। বইটি প্রকাশ করেছে চৈতন্য প্রকাশনী (স্টল নম্বর : ৬৩৪-৬৩৫)। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।



● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : অনুভূতিটা প্রকাশ করা আমার জন্য বেশ কঠিন। শুধু বলব, আমার ভীষণতর কষ্টের অনুভব গুলো  এ বইটির প্রতিটি পাতায় রচিত আছে। আমার অন্তঃপটের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে 'এক কৃষ্ণতিথির অপেক্ষায়'।

● আচ্ছা,  আপনার কাব্যগ্রন্থের সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু জানতে চাই...
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে বললে ঠিক এভাবে ব্যাখ্যা করবো, আমার বইটি একটা ছোট্ট গোলাপ গাছ সম। যাতে কাঁটা আছে, আছে পাতা, কলি ও সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপও। সাথে সৌরভ। অর্থাৎ আধুনিক যুগ, বাস্তবতা, স্বাধীনতার বর্তমান প্রেক্ষাপট, প্রেম, কষ্ট সবকিছুই আছে বইটিতে।
আমি আমার মত চেষ্টা করেছি। তবে কি, গোলাপ প্রত্যেকের পছন্দের তালিকাকৃত নাও হতে পারে।

● গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের মতো সাহিত্যের দারুণ কিছু শাখা বর্তমান। কিন্তু আপনার কবিতায় মনোনিবেশ কেন?
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : কেননা আমি কবিতা ভালোবাসি। তাই বলে যে গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাসের প্রতি অনিহা আছে তা নয়। কিন্তু ভালোবাসার জায়গাটা বরাবরই প্রাধান্যপূর্ণ।

● যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ?
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : খুব একটা খারাপ নয়। বেশ ভালোই বলা চলে। সত্যি বলতে, সহজলভ্য জিনিস গুলোর স্থায়িত্ব খুব দীর্ঘতর হয় না। তাই আমি পাঠক প্রিয়তা সময় সাপেক্ষেই অর্জন করতে চাই। ধৈর্য আমার নেহাত কম না।

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। কবিতা লেখার শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : লেখার শুরুটা বলতে গেলে বলবো, এটাও মহাবিশ্বের বিস্ফোরনের মত! শুরুর ঠিকঠাক সময়টা নির্ধারণ করা মুশকিল। তবে মনে আছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম পাঁচ লাইনের একটি ছড়া লিখেছিলাম। মা শুনে বিশ্বাস করেনি ওটা আমি লিখেছি। তারপর বিদ্যালয়ের ম্যাগাজিন, আঞ্চলিক পত্রিকা, বিভিন্ন মাসিক পত্রিকায় লেখা শুরু করি। অনেকেই পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন। এরপর ২০১৫ তে চট্টগ্রামের দৈনিক খবরিকা, আজাদি ও কালেরকন্ঠের সম্মিলিত এক অনুষ্ঠানে কবিতার জন্য নির্মোলেন্দু গুণদার হাত থেকে গুণিজন সম্মাননা এবং ক্রেস্ট গ্রহণ করি। তারপর চৈতন্য প্রকাশনীর রাজীব দা হঠাৎ বই বের করার প্রস্তাব দিয়ে বসেন, আমিও রাজি হয়ে যাই। এটাই উঠে আসার গল্প। খুব ছোট্ট, কিন্তু আমার জন্য দুর্গম ছিলো বেশ।

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
তামান্না লোহানী ছোঁয়া : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

'ভালোবাসাগুলোকে কবিতায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি'

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে রংপুরের তরুণ কবি বন্য পীতম'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঈশ্বর ও ভালোবাসাদের গল্প’। বইটি প্রকাশ করেছে শব্দশৈলী (স্টল নম্বর : ৩৫৭)। 'বাংলার মুখ'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় আজকের আয়োজন।


● এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঈশ্বর ও ভালোবাসাদের গল্প' প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম প্রকাশের অনুভূতি বলুন।
বন্য পীতম : কিছু অনুভূতি সম্ভবত প্রকাশ সম্ভব হয় না অথবা আমি প্রকাশ-ই করতে জানি না। তবে এতটুকু বলবো,  কবিতারা তো সন্তানতুল্য... সন্তান ভূমিষ্ঠের এ অনুভূতি প্রকাশে অক্ষম যে আমি।

●আপনার কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন...
বন্য পীতম : আসলে ঈশ্বর ও ভালোবাসা নিয়ে আমার অনুভূতি আর ভাবনা গুলো প্রকাশের চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি...। খুব প্রিয় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আর জীবনের চলার পথে ভালোবাসাগুলোকে কবিতায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি, হয়তো খুব হাস্যকর সে চেষ্টা। 

● তা আপেক্ষিক বটে (হাসি)। কবিতা নির্মাণের অসংখ্য বিষয় আমাদের চারদিকে দৃশ্যমান। সমাজ-রাষ্ট্র, জীবন-প্রকৃতি প্রভৃতি এতো কিছু এড়িয়ে ঈশ্বরকে নিয়ে লিখলেন। কিন্তু কেন?
বন্য পীতম : ঈশ্বরকে হয়তো একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি! 

● সুকৌশল উত্তর! যেকোনো লেখকের ক্ষেত্রেই প্রথম প্রকাশে পাঠক প্রিয়তা পাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন বটে। তারপরেও এখন পর্যন্ত ফলাফল কীরূপ?
বন্য পীতম : আসলে বাস্তবতাটা একটু কঠিন-ই। খুব বেশি সাড়া হয়তো পাইনি, হয়তো পাবোও না। তবে আমার বৃত্তে দাঁড়িয়ে আমি বলবো, সবকিছু মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আর বইটা আজই(গতকাল) মেলায় এসেছে। তারপরও বেশ আগে থেকেই কেউ কেউ বইয়ের অপেক্ষায় আছেন। দুই-একজন বই নিয়ে ইনবক্সে ভালো লাগার কথাও বলেছেন। অনেকেই বই চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে বলবো, হ্যাঁ, আমি সন্তুষ্ট। 

● একটু পিছনে তাকাতে চাচ্ছি। কবিতা লেখার শুরু, তারপর হেঁটে হেঁটে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠকের হাতে। উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।
বন্য পীতম : লেখার শুরু ছোট্ট বেলায়। কাজিন সাগর দাদা খুব চমৎকার লিখতেন, এখন আরও ভালো লেখেন। সেই প্রভাব এড়ানো অসম্ভব ছিলো। একটি কথা না বললেই নয়, ছোট বেলার সেই কাঁচা হাতের সেই লেখা খুব উৎসাহ নিয়ে পড়তেন আমার সেজো মামা(শাহ আহম্মেদ রাসেল আলম)। যেটা আমাকে প্রচণ্ড উৎসাহিত করেছে। বড় হয়ে জেনেছি আমার আম্মুও চমৎকার লিখতেন।
আর আমার কথা বলার চেয়ে লিখতেই বেশি ভালো লাগতো। লিখতে লিখতে হয়তো একটু উন্নতি হয়েছে এই যা...। বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু নিজেকে এখনো কাঁচা লেখক হিসেবেই জানি। এটা বিনয় নয়, সত্যি।

● আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা দেয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার নির্মাণ এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। ভালো থাকুন।
বন্য পীতম :  ধন্যবাদ। সবাই তো সব জানতে চান না অথবা সব কথা সবাইকে বলাও হয় না। সে অর্থে, আমিও কৃতজ্ঞ। আপনারাও ভালো থাকুন।